BIPC Conference 2014|শুরু থেকে সমাপ্তি পর্ব

গত আগস্ট মাসে BIPC Conference 2014 আয়োজন এর  বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পর আয়োজনের সাথে আমরা যে কয়জন জড়িত ছিলাম সবার জন্যই এটি একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিলো।কারণ হিসেবে বলতে পারি এর আগে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন নামে আমরা ফেইসবুক ভিত্তিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলেও সেটা আলোর মুখ দেখেনি।এই সম্মেলনের উদ্যোগ নেয়ার আগে আমি নিজে ব্যাক্তিগতভাবে অনেকের সাথে  যোগাযোগ করে এমন একটি উদ্যোগের কথা জানালেও তারা সাথে আছেন এইটুকু বলেই ক্ষান্ত থাকেন।বার বার ইমেইল করে এসএমএস পাঠিয়ে এমনকি ফোন করেও সবার সহযোগিতা চাই।তাতেও তেমন সাড়া না পাওয়ায় উদ্যোগ আলোর মুখ দেখবে কিনা সেই বিষয়ে সন্ধিহান হয়ে পড়ি।

মিটিং শেষে ফোটো সেশন

মিটিং শেষে ফোটো সেশন

অনেক চেষ্টা করেও কাউকে পিসি’র সামনে থেকে তোলা যাচ্ছিলনা দেখে হতাশ হয়ে পড়ি।আমরা সবাই উদ্যোগের বাস্তবায়ন চাইলেও আমার সবার মধ্যেই অভিজ্ঞতার অভাব ছিল।এতোগুলো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সামনে এগিয়ে যাওয়াটা ছিল বেশ কষ্টসাধ্য।

আমাদের আগ্রহ দেখে আবুল কাশেম ভাইয়া চট্রগ্রাম থেকে ঢাকায় ছুটে এলেন।টানা কয়েকদিন নিজের ব্যবসা রেখে তিনি ডেডিকেটেডলি আমাদের সময় দিলেন।পরপর কয়েকটি মিটিং করলাম আমরা।সিদ্ধান্ত হল আমরা সবার মতামত নেব তবে কারো মতামত এর জন্য অপেক্ষা করে আর পেছনে পড়বোনা(যেটা এর আগে হয়ে আসছিলো)।

প্রথমদিকে আমরা এমন একটি অনুষ্ঠানের জন্য একটি বাজেট দাঁড় করালাম।তারপর খরছের খাতগুলো নির্দিষ্ট করে অনুষ্ঠানের জন্য অর্থ সংগ্রহের কয়েকটি পদ্ধতি নোট করলাম।সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো নির্দিষ্ট করার চেষ্টা করলাম। আমরা স্পষ্টতই বুঝতে পারছিলাম যে এই ইন্ডাস্ট্রির লোকদের ভার্চুয়াল জগতের বাইরে নিয়ে আসা খুবি কঠিন কাজ হবে।আর এই কঠিন কাজটিই আমাদের করতে হবে।

এই ইন্ডাস্ট্রির আরো একটি বড় সমস্যা হচ্ছে এখানে কেউ কোন ভালো উদ্যোগ নিলেই একশ্রেণীর অসাধু লোক নিজ দায়িত্বে নিজের মূল্যবান সময় নষ্ট করে সেই উদ্যোগের দোষ খোঁজা শুরু করে।এসকল সম্ভাব্য সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ জেনে বুঝেই আয়োজকরা বিআইপিসি সম্মেলন ২০১৪ ঘোষণা করেন।

উদ্যোগ নেয়ার পর থেকেই আমরা সবাই এই আয়োজন সফল করতে বেশ কয়েকটি মিটিং এ মিলিত হই।নিজস্ব কোন অফিস না থাকায় একেকদিন একেক অফিসে আমরা মিলিত হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।পর পর কয়েকটি মিটিং এ সবার প্রচণ্ড আগ্রহ দেখে আমরা বেশ আশাবাদী হই এবং যাথাযথ প্রক্রিয়া অনুস্মরণ করে পুরো আয়োজনটিকে সাজিয়ে তোলার মিশনে নেমে পড়ি।

সপ্তাহের প্রতি শনিবার আমরা মিটিং করার সিদ্ধান্ত নেই।মিটিং এর অন্তত ২দিন আগেই গ্রুপ এ পাবলিক পোস্ট দিয়ে সবাইকে আমরা মিটিং এ উপস্থিত থেকে তাদের মতামত দেয়ার অনুরোধ জানাই।

কোন একটি মিটিং এ ব্যাস্ত সময় কাটানোর  সসময় নিঝোল ক্রিয়েটিভ এর ক্যামেরায় বন্দি হই এভাবে।

কোন একটি মিটিং এ ব্যাস্ত সময় নিঝোল ক্রিয়েটিভ এর ক্যামেরায় বন্দি হই এভাবে।

অনেকেই সেই ডাকে সাড়া দিয়ে উপস্থিত হতেন এসব মিটিং এ।তবে বেশিরভাগই অনুপস্থিত থাকতেন।এরপরেও আমরা থেমে থাকিনি।যে কয়জন আসতেন তাদের নিয়েই মিটিং করতাম,আড্ডা দিয়ে খেয়ে দেয়ে বাসায় ফিরতাম।যেদিন যার অফিসে মিটিং করতাম সেদিন তিনি সবার খাওয়ার ব্যবস্থা করতেন।

এভাবেই শুরু হয়েছিল আমাদের কার্যক্রম।একটা সময় এসে আমরা কয়েকজন স্পন্সরের সাড়া পেলাম।কিছু ফান্ড এর যোগার হয়ে যাওয়ায় দ্রুত গতিতে কাজগুলো গুছিয়ে নিয়ে সম্মেলন এর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু করা হয়।

মিটিং এর পর উপস্থিত সবার গ্রুপ ফটো

মিটিং এর পর উপস্থিত সবার গ্রুপ ফটো

রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর একজন অরগানাইজার হিসেবে কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে।দীর্ঘদিন থেকে অনলাইন কম্যুনিটির সাথে জড়িত থাকলেও এরকম বৃহৎ পরিসরে কাজ করে একটি বৃহৎ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি একথা দ্বিধাহীনভাবে বলতে পারি।

বিআইপিসি’র নিবন্ধন প্রক্রিয়া যখন আমরা শুরু করি তখনো বাতাসে কিছু কথা ভেসে বেড়াচ্ছিল।অনেকেই বলছিলেন এতো বড় কম্যুনিটিটাকে একত্রিত করা চাট্রিখানি কথা নয়।তারওপর এতবড় একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য যে ধরণের ক্যাপাবিলিটি দরকার সেটা আদৌ তৈরি হবে কিনা এ নিয়েও কেউ কেউ সন্ধিহান ছিলেন।

তবে আয়োজকদের একজন হিসেবে বলতে পারি আমাদের উদ্যোক্তাদের কারো মাঝেই এ নিয়ে কোনরকম সন্দেহ ছিলনা।প্রথমদিকে আমরা ১৫০০ টার্গেট করে আয়োজনের চিন্তা করলেও ভেন্যু খুঁজতে গিয়ে  দেখলাম ঢাকা শহরে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের জন্য এতো বড় কোন প্লেস নেই।সেই মানের ২/১ টা পাওয়া গেলেও পারিপার্শ্বিক ফিটনেস না থাকায় সেটা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

অবশেষে উপস্থিতি ১৫০০ থেকে কমিয়ে ১০০০ হাজারে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হল।এই ক্যাপাসিটির মধ্যে যতগুলো ভেন্যু দেখেছি সবগুলো থেকে বেটার ছিল গুলিস্তান এর মহানগর নাট্যামঞ্চ(কাজী বসির মিলনায়তনটি)।

সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হল এই ভেন্যুতেই হবে অনুষ্ঠান।দ্রুত ভেন্যু বুকিং দিয়ে শুরু হল রেজিস্ট্রেশন প্রসেস।আমার বলার শর্টকাট কী আছে কিন্তু এতোগুলো কাজ এতো দ্রুত সম্পাদনের কোন শর্টকাট কী ছিলনা।যে কথাগুলো আমি এতো সহজে বললাম এই প্রক্রিয়ায় আসার জন্য রীতিমত আমাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি মজা পেয়েছি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়ার পর টিকেট নিয়ে মানুষের হাহাকার দেখে।অনেকে ফোন করে ডাবল টাকায় টিকেট কিনতে চেয়েছিলেন।যদিও শুরুর দিকে সবাই একটু চিন্তিত ছিলেন কেমনে কি হবে তাই নিয়ে।তবে টিকেট বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর যারা ‘ কেমনে কি হবে’ ভাবছিলেন তারাই নড়েচড়ে বসেছিলেন।

অনেকের ধারণা ছিল আগের মতই এবারো কিছু হবেনা।শেষপর্যন্ত ‘অনুষ্ঠান হচ্ছেনা’ এমন খবর শোনার অপেক্ষা করেছিলেন কেউ কেউ।তবে অবস্থা বেঘতিক দেখে পরে তারাই আবোল তাবোল স্ট্যাটাস দিতে শুরু করেছিলেন।

প্রথম দিকে যারা পাত্তাই দিচ্ছিলেন না পরে তারাই নিজেদের গুরুত্ব বুঝিয়ে ফেইসবুকে খোলা চিঠি ছাড়তে শুরু করেছিলেন।কেউ কেউতো শুনেছি বার বার নিজের মেইলবক্স চেক করা শুরু করেছিলেন গেস্ট হিসেবে দাওয়াত পাওয়ার জন্য।তবে বরাবরই আমরা সেদিকে কান দেইনি।যাদের আমরা যোগ্য মনে করেছি তাদেরকেই লিস্টভুক্ত করেছি।

এখানে একটা কথা বলে নেয়া ভালো আইটি ইন্ডাস্ট্রিটা অনেক বড়।এতো বড় একটা কমিউনিটির সবাইকে চেনা খুব কঠিন কাজ আর সেজন্যই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমরা অনেক গুণীজনকে আমন্ত্রণ জানাতে পারিনি।

বিআইপিসি সম্মেলন ২০১৪ অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে  সবচেয়ে বেশি যে মানুষটি খেটেছেন তিনি আবুল কাশেম ভাই।তিনি উদ্যোগ না নিলে হয়তো আজকের বিআপিসির জন্মই হতোনা।আজ বাংলাদেশের অনলাইন কম্যুনিটি শুধু নয় পুরো আইটি ইন্ডাস্ট্রিটাই চিনে ফেলেছে বিআইপিসিকে।তিনি চট্রগ্রাম থেকে অসুস্থ্য শরীর নিয়েও প্রয়োজনের তাগিদে ছুটে আসতেন ঢাকায়।যখন যেখানে যেভাবে প্রয়োজন হয়েছে সেখানেই তিনি উপস্থিত থেকেছেন।দীর্ঘদিন দিক নির্দেশনার যে শূন্যতা আমরা অনূভব করেছিলাম সেটা তিনি আমাদের ভুলিয়ে দিয়েছিলেন।বুদ্ধি-পরামর্শ থেকে শুরু করে এক কথায় পুরো অনুষ্ঠানের ৫০% কৃতিত্বই আমি তাকে দেব।

নিজের ব্যবসা রেখে আমাদের অনুরোধের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে পুরো অনুষ্ঠানের জন্যই ডেডিকেটেডভাবেই খেটেছেন তিনি।সুদূর চট্রগ্রাম থেকে এতো কষ্ট করে ঢাকায় এসে বার বার মিটিং করেছেন।একটানা ৫/৭ দিন হোটেলে থেকেছেন আবার কখনো কখনো রাতে এসে দিনে আবার ফিরে গেছেন চট্রগ্রাম এ।

শুরুর দিকে আমাদের আর্থিক অনেক অসঙ্গতি ছিল।সেই বিষয়গুলো সকলের অজান্তেই চালিয়ে নিয়েছেন তিনি।যেখানে যেভাবে যে প্রয়োজন হয়েছে সেখানেই তিনি নিজের বুদ্ধি,পরামর্শ সহ সকল প্রকার সহযোগিতা করেছেন।যে কাজে তিনি নিজে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন মনে করেছেন সেটা নিজে উপস্থিত থেকেই করেছেন।

আর কিছু কাজ আমি মোবারক ভাই,সুমন ভাই এবং প্রমি নাহিদ মিলে করেছি।মোবারক ভাই এর ব্যাংকে গিয়েও তাকে অনেক জ্বালিয়েছি এটা সেটা নিয়ে।যদিও তার সবকিছুই ছিল অনূষ্ঠানকেন্দ্রিক।সারাদিন ব্যাংকে বসেও মোবারক ভাইকে অনেক কাজ করতে হয়েছে।মাঝে মাঝে ব্যাংক রেখে এখানে সেখানে দৌড়াতে হয়েছে।

প্রমি নাহিদ এর কথা না হয় নাই বললাম।সকালে  বিডিওএসএন এর  সেমিনার,দুপুরে বিডিওএসএন অফিস,বিকেলে আবার আমাদের সাথে মিটিং এ।সব মিলিয়ে তাকেও অনেক কষ্ট করতে হয়েছে।

তাহের চৌধুরী সুমন ভাইকে শেষের দিকে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়েছে।প্রথম দিকে অফিসে বসে কাজ করলেও শেষের দিকে ১১শ’ লোকের টিকেট তৈরির পুরো কাজটিই তিনি করেছেন।

এছাড়া  থিম এ্যাক্সপার্ট এর পারভেজ ভাই,ডেভসটিমের আল আমিন কবির ভাই,বেসিসের বদরুদ্দোজা মাহমুদ তুহিন ভাই,ওয়েবকোড এর আমিরনুর ভাই  সহ নাম উল্লেখ করতে পারিনি এমন আরো অনেকেই এই অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে কাজ করেছেন।

লেখা অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে।অনেক কথাই বাদ পড়েছে।বাদ পড়েছে অনেকের নাম ও।আগামী পর্বগুলোতে আরো বিস্তারিত লেখার আশা রাখছি।এরপর লিখবো সফলতা-বিফলতা নিয়ে ২য় পর্ব।কষ্টকরে লেখাটি পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।


About karjohn Kamal

আমি কার্জন কামাল।শখের বসে মার্কেটিং করতে এসে পরিচিত হই ইন্টারনেট মার্কেটিং এর সাথে। ২০০৯ সালে আমি ব্লগিং এবং ইন্টারনেট মার্কেটিং এর সাথে পুরোপুরি জড়িত হই।ওয়েব ডিভেলপমেন্ট এবং এসইও নিয়ে কাজ করি প্রায় ৩ বছর। বর্তমানে আমি একজন উদ্যোক্তা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।