আমার সম্পর্কে

নিজের সম্পর্কে বলার তেমন কোন উপাদান খুঁজে পাইনা।তারপরেও বলার জন্য বলি।২০০৭ সালের কথা।আমি তখন এইচএসসির ছাত্র।সেই সময়ে বাংলাদেশে একটুআধটু ফ্রীল্যান্সিং এর বাতাস বইছে।বন্ধুদের কারো কারো সাথে ফ্রীল্যান্সিং ক্যারিয়ারে আসার বিষয়ে পরামর্শ করলাম।নতুন বিষয়,বয়স কম,পূর্ব অভিজ্ঞতার অভাব এইসব বিষয় মিলিয়ে কেউ এগুতে সাহস করলোনা।সেই সময়ে কোথায় শিখব কিভাবে শিখব এসব নিয়েও ছিল অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্ব।এরই মাঝে একবার ঢাকায় এলাম।তখন আমি এইচএসসি ২য় বর্ষের ছাত্র।ঢাকার ধানমন্ডিতে এসে খোঁজ পেলাম একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের।তারা আবার শুধু এসইও নিয়ে কাজ করতো।আর তাদের প্রশিক্ষণ ও ছিল শুধু এসইও নিয়ে।তখনো জানিনা এসইও কি, ওটা খায় নাকি গায়ে দেয়।তারপরেও বিষয়টি পরিবারের কাউকে না জানিয়েই সাহস করে তাদের ৩ মাসের কোর্সে ভর্তি হয়ে গেলাম।

এর মধ্যে গুগল হয়ে উঠে আমার অন্যতম গৃহ শিক্ষক!প্রচুর পরিমাণে স্টাডি শুরু করি।যখন যেখানে ঠেকি সেখানেই শিখতে শুরু করি।মোটামুটি একটা সেটিসফেকশন আসার পরেই ওডেস্কে এ্যাকাউন্ট খুলি এবং ছোট ছোট কাজের জন্য বিড করতে শুরু করি।

প্রথম ৬ মাস টানা বিড করেও কোন কাজ পাইনি।একটা সময় হতাশ হয়ে পড়লেও থেমে যাইনি।এর মধ্যেই অনলাইন থেকে বিভিন্ন ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখে ওয়েব ডিজাইন শুরু করি।পাশা পাশি এইচটিএমএল,পিএচপি,জেকুয়েরী এগুলো শেখার জন্য ঢাকার আরেকটা ট্রেনিং সেন্টার এ ভর্তি হয় যদিও সেই ট্রেনিং সেন্টারের ট্রেইনার থেকে আমার বেসিক নলেজ অনেক ভালো ছিল!!

যাইহোক দীর্ঘ ৬ মাস সেই ট্রেনিং সেন্টারে আসা যাওয়ার পর আমার মনে হলো যে সময়টা আমি এখানে দিচ্ছি সেই সময়ে আমি ঘরে বসে গুগলিং করে আরো অনেক ভালো শিখতে পারবো।

তারপর W3School  দিয়ে ঘরে বসেই ব্যাপক পড়াশুনা শুরু করি।এর মধ্যে ওয়েব ডিভেলপমেন্ট নিয়ে আমি প্রচুর পড়াশোনা করি এবং লোকাল কয়েকটি ওয়েবসাইট তৈরির কাজও করে ফেলি।

এইচএসসি পরীক্ষার পরে বিএসসি করার জন্য ব্যাঙ্গালুরুর ডনবস্কো ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটে ভর্তি হলাম।তখন ওডেস্কে অল্প অল্প কাজের বিড করতাম।ব্যাঙ্গালুরু যাওয়ার ১২/ ১৩ দিন আগে আমি প্রথম একটি বিড উইন করি এবং কাজ পাই।তারপর থেকে আমার আর থেমে থাকা লাগেনি।একে একে ওয়েব ডিভেলপমেন্ট এবং ইন্টারনেট মার্কেটিং এ নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পেলাম।এক সাথে বেশ কয়েকটি এসইও প্রজেক্টে কাজ করি।

এরপর এসইও এর পাশাপাশি  ওয়েব ডিভেলপমেন্ট এর প্রজেক্ট এ কাজ করা শুরু করলাম।একা একা কাজ করতে অসুবিধা হওয়ায় ৩ ইন্ডিয়ান এবং একজন নেপালি কে নিয়ে ৫ জনের একটি টিম করে কাজ করা শুরু করলাম।বেশ বড় বড় কয়েকটি প্রজেক্ট সফলভাবে  সমাপ্ত করে রীতিমত ফ্রীল্যান্সিং কে নেশা এবং পেশা হিসেবে নিয়ে নিয়েছিলাম।

৩ বছর টিমের সাথে কাজ করারপর আমাদের টিম এর একজন একটা অঘটন ঘটিয়ে বসলো।সেই অঘটনের ভার সামলাতে টিম ভেঙ্গে দিতে হয়েছিল অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবেই।ব্যাঙ্গালুরু যতোদিন ছিলাম কাজের বাইরে কোথাও ঘুরার সময়ও পাইনি।এজন্য লাস্ট যখন ব্যাঙ্গালুরু গিয়েছিলাম ওই শহরটাকে চিনতে আমার অনেক কষ্ট হয়েছে!।যাইহোক টিম ভেঙ্গে আবার কিছুদিন একা একা কাজ করি।এরপর ২০১২ সালে দেশে এসে প্রথমে ৩ জন মিলে এক্পটি র্টনারশিপ বিজনেস চালু করি।তবে ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার অভাবে সেটা গুটিয়ে ফেলতে হয় আমার।

সর্বশেষ ২০১৪ সালে  কোডার ইনফিনিটি নামে একটি ওয়েব বেইজ সার্ভিস শুরু করি। আমি কোডার ইনফিনিটির ‘সিইও’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।আমাদের কোম্পানীতে ২ জন ফুল্টাইম এবং ৬জন পার্টটাইম স্টাফ কাজ করেন ।আমরা  মূলত  ডিজিটাল মার্কেটিং এবং ওয়েবডিভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করি।পাশাপাশি ২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে আমরা ডিজিটাল প্রোডাক্ট তৈরির কাজ শুরু করি।আমরা অফশর এবং এসবিসএস সহ  ওয়েববেইজড আরো কয়েকটি সার্ভিস দিয়ে থাকি।খুব সম্প্রতি আমরা একটি কানাডিয়ান কোম্পানির জন্য  ২টি ডেস্কটপবেইজড সফটওয়্যার ডিভেলপ করার জন্য নির্বাচিত হয়েছি।

তাছাড়া আমার আরো ৩টি স্টার্টআপ প্রজেক্ট আছে।তবে সেগুলো এখনি প্রকাশ করতে চাচ্ছিনা।

কষ্ট করে লেখাটি পড়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

 

 

About karjohn Kamal

আমি কার্জন কামাল।শখের বসে মার্কেটিং করতে এসে পরিচিত হই ইন্টারনেট মার্কেটিং এর সাথে। ২০০৯ সালে আমি ব্লগিং এবং ইন্টারনেট মার্কেটিং এর সাথে পুরোপুরি জড়িত হই।ওয়েব ডিভেলপমেন্ট এবং এসইও নিয়ে কাজ করি প্রায় ৩ বছর। বর্তমানে আমি একজন উদ্যোক্তা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।