নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়ন বিষয়ক আমার কিছু ভাবনা

দেশে বর্তমানে নতুন উদ্যোগের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন বা উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এর ব্যবস্থাকরণ বিষয়ে আমাদের সরকারের অসহযোগিতা মূলক মনোভাব দেশের এক তৃতীয়াংশ ইনোভেটিভ আইডিয়া বা উদ্যোগকে  ব্যর্থতায় রূপান্তরিত করছে।

অথচ সরকারী সহযোগিতা থাকলে এসব উদ্যোগ বিন্দু থেকে বৃহৎ একটি শিল্প হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হতে পারতো।দেশে স্টার্টআপ পর্যায়ের অনেক ব্যবসাই শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা এবং প্রাথমিক পুঁজি যোগাড়ে অক্ষমতার কারণে সফলতার মুখ দেখছেনা।

একজন নতুন উদ্যোক্তার উদ্যোগ বাস্তবায়ন বিষয়ক নির্দেশনা এবং আর্থিক সহযোগিতা তার চলার পথকে হাজার মাইল এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। আজকে চিন সারা পৃথিবীজুড়ে রাজত্ব করছে।এর মানে কি চায়নারা অনেক বেশি জ্ঞানী আর আমরা অনেক বেশী অজ্ঞ?

নাহ বিষয়টা কিন্তু মোটেই সেটা নয়।চিন দেশে প্রত্যেক ঘরে ঘরে ফ্যাক্টরি,অলিতে গলিতে ফ্যাক্টরি।শুধুমাত্র প্রযুক্তি পন্যই নয় চিন এমন একটি দেশ যেখানে তৈরি হয়না এমন কোন প্রোডাক্ট নেই।

ওদের এই উন্নতি একদিনে হয়নি।ওদের রয়েছে প্রচুর সরকারী সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সরবরাহের ব্যবস্থা।আমাদের দেশে স্টার্টআপ পর্যায়ে প্রচুর ধকল সামলাতে হয় একজন উদ্যোক্তাকে।

অথচ চীনে ঠিক তার উল্টোটা।আপনার মাথায় একটি আইডিয়া এসেছে আপনি সেটা বাস্তবায়ন করতে চান শুধুমাত্র একটি ফাইল করে আপনার আইডিয়ার কিছু তথ্য দিয়ে সরকারী সংশ্লিষ্ট বিভাগে আবেদন করলেই হল।তারপর আর আপনার কিছু করা লাগবেনা।সরকারের লোকজন আপনার সেই আইডিয়ার আদ্যপ্রান্ত নিজ দায়িত্বে  গবেষণা করে আপনাকে প্রতিবেদন প্রদান করবে।তারপর আপনার কি করণীয় সেটাও তারাই ঠিক করে দেবে।

পুঁজি থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ সবকিছুই সরকার ব্যবস্থা করবে।তবে খুব সহজ একটি শর্ত হচ্ছে আপনার ব্যবসায়ের একটা নির্দিষ্ট লভ্যাংশ সরকারকে দিতে হবে।

চীন সরকারের একটি স্পেশাল শাখাই আছে শুধু  নতুন আইডিয়া এবং উদ্যোগ বাস্তবায়ন ও উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় পুঁজি সরবরাহের জন্য।

আমার মনে হয় চীন সরকারের এই নীতিটা আমাদের দেশেও কার্যকর হতে পারে।আর যদি সেটা হয় তাহলে আমি নিশ্চিত আমাদের দেশে যে পরিমাণ মেধা আছে সেটা খুব সহজেই চীনকে ডিঙ্গিয়ে যেতে সক্ষম হবে।

শুধু তাই নয়,এমন হলে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ কতটা মজবুত হবে সেটা বলে বুঝানোর মত নয়।

অতএব আমি মনে করি,দেশের মেধাবীদের মেধার মূল্যায়ন এবং একটি স্টার্টআপ ব্যবসার সফলতার জন্য এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সরকারী সহযোগিতা ।

একজন উদ্যোক্তার উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে পুঁজি সরবরাহের সকল দায়িত্ব নিয়ে সরকার যদি সেই ব্যবসা থেকে একটা লভ্যাংশ গ্রহণ করে তাহলে কোন উদ্যোক্তারই আপত্তি থাকার কথা নয়।

এছাড়া লজিস্টিক যেসব বিষয় উদ্যোগ বাস্তবায়নের সাথে জড়িত সেগুলোও সরকারের বিশেষ বিবেচনায় থাকা উচিত বলে আমি মনে করি।

একথা স্বীকার করতেই হবে বর্তমানে গ্লোবাল মার্কেট এর এক চতুর্থাংশ  নিয়ন্ত্রণ করছে চীন।মানুষ রসিকতা করে বলে ‘যদি হয় চায়না বেশিদিন যায়না’।তবে এটা কিন্তু সবক্ষেত্রে সঠিক নয়।

অনেক ক্ষেত্রে আমি দেখেছি অনেক বড় বড় ব্র্যান্ড এর চেয়ে চীনের তৈরি সমমানের পন্যের গুনগত মান অনেক বেশি ভালো।অথচ দাম বিবেচনায় সেটা সামান্যই বলা চলে।


About karjohn Kamal

আমি কার্জন কামাল।শখের বসে মার্কেটিং করতে এসে পরিচিত হই ইন্টারনেট মার্কেটিং এর সাথে। ২০০৯ সালে আমি ব্লগিং এবং ইন্টারনেট মার্কেটিং এর সাথে পুরোপুরি জড়িত হই।ওয়েব ডিভেলপমেন্ট এবং এসইও নিয়ে কাজ করি প্রায় ৩ বছর। বর্তমানে আমি একজন উদ্যোক্তা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।